-

লাইফ ইন্সুরেন্স বা জীবন বিমা এর উপকার এবং সকল তথ্য একসাথে

বর্তমান সময়ে আমরা সকলেই লাইফ ইন্সুরেন্স বা জীবন বীমা সম্পর্কে মোটামুটি জানি। লাইফ ইন্সুরেন্স বা জীবন বীমা এর উপকারিতা কিভাবে করতে হয় এবং কোথায় করলে ভাল হবে সকল তথ্য একসাথে পেয়ে যাবেন আজকের এই পোস্টে। জীবন বীমা বা লাইফ ইন্সুরেন্স সম্পর্কে যদি আপনার কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আজকের পোস্টটি আপনার জন্যই।

লাইফ ইন্সুরেন্স কি? | জীবন বীমা কি?

জীবন বীমা সম্পর্কে অন্যান্য তথ্য জানার আগে আমাদের সর্বপ্রথম এটা জানতে হবে আসলে লাইফ ইন্সুরেন্স কি?

ধরা যেতে পারে জীবন বীমা এক ধরনের বিনিয়োগের মতো। যেখানে আপনি আপনার ভবিষ্যতের অনিশ্চত পরিস্থিতির কথা ভেবে এখন থেকেই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান এ একটি নির্দিষ্ট অর্থ জমা রাখছেন। আপনি যেই প্রতিষ্ঠানের টাকা জমা রাখছেন নির্দিষ্ট সময়ের পর সেই প্রতিষ্ঠান থেকে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাবেন। ভবিষ্যতে কি হয় না হয় বলা যায় না, এটা আপনার ভবিষ্যতে যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তখন কাজে দিবে।

বর্তমান সময়ে বুদ্ধিমান মানুষেরা নিজের এবং নিজের পরিবারের কথা ভেবে লাইফ ইন্সুরেন্স করে রাখে। নিজের এবং নিজের পরিবারের ভালো কে না চায় লাইফ ইন্সুরেন্স নিজের পরিবারের জন্য রেখে যাওয়া একটি আর্থিক সহযোগিতা।

লাইফ ইন্সুরেন্স এর উপকার

অনেকেই এখনো পর্যন্ত জানে না আসলে লাইফ ইন্সুরেন্স এর উপকার কি কি? লাইফ ইন্সুরেন্স করে রাখলে এটি আপনার এবং আপনার পরিবারের জীবনে অনেক উপকারে আসবে।

আপনি যদি লাইফ ইন্সুরেন্স করে রাখেন তাহলে আপনার সাথে যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে এবং আপনি যদি মারা যান তাহলে আপনার পরিবার লাইফ ইন্সুরেন্সের নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পাবে এর ফলে আপনি পরিবার থেকে চলে যাওয়ার পরেও আপনার পরিবার আর্থিক সহযোগিতা পাবে।

লাইফ ইন্সুরেন্স কিন্তু ঋণ পরিশোধ করতেও সহযোগিতা করে। যদি আপনি কোন কারনে আপনার ঋণ পরিশোধ করতে না পারেন তখন আপনার এই লাইফ ইন্সুরেন্স এর জমানো অর্থগুলোই আপনাকে ঋণ পরিশোধ করতে সহযোগিতা করবে।

সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে সবাই চাই তারা যখন পৃথিবীতে থাকবে না তখন তাদের পরিবার এর যেন কোন রকম কোন অসুবিধা না হয়। বিশেষ করে পরিবার থেকে যখন একজন উপার্জন করার ব্যক্তি মারা যায় তখন পরিবার টি অর্থনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু লাইফ ইন্সুরেন্স করে রাখলে আপনি মারা যাওয়ার পরেও আপনার পরিবারের আর্থিক অসুবিধা হবে না। লাইফ ইন্সুরেন্স অর্থাৎ জীবন বীমা করে রাখলে মানুষ নিশ্চিত থাকে যে তার যদি কিছু হয়েও যায় তাহলে তার পরিবারকে দেখার জন্য অন্তত কিছু করে রেখে যেতে পারছে।

লাইফ ইন্সুরেন্স কিভাবে করতে হয়

লাইফ ইন্সুরেন্স করার পদ্ধতি খুবই সহজ। অনেকে আছে যারা প্রশ্ন করেন লাইফ ইন্সুরেন্স কিভাবে করতে হয়? তাদের জন্য আমরা নিচেই লাইফ ইন্সুরেন্স কিভাবে করতে হয় তার বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করলাম। লাইফ ইন্সুরেন্স করতে হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে হয়:

  • লাইফ ইন্সুরেন্স করতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে একটি সঠিক প্রতিষ্ঠান ঠিক করতে হবে যে প্রতিষ্ঠানে আপনি আপনার লাইফ ইন্সুরেন্স এর অর্থ জমা রাখতে চান।
  • লাইফ ইন্সুরেন্স করার জন্য অবশ্যই একটি সঠিক এবং বিশ্বস্ত নমিনি ঠিক করতে হবে। যে আপনি মারা যাওয়ার পরে আপনার টাকাগুলো উত্তোলন করবে।
  • লাইফ ইন্সুরেন্স করার সময় আপনার বয়স, স্বাস্থ্য, কাজ এবং আর্থিক অবস্থা নির্ভর করে লাইফ ইন্সুরেন্স নীতি নির্বাচন করতে হবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
  • সাধারণত লাইফ ইন্সুরেন্স দুই প্রকারের হয়ে থাকে একটি স্থায়ী এবং অপরটি বর্জ্য। স্থায়ী ইন্সুরেন্স একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য হয় এবং বর্জ্য ইন্সুরেন্স জীবনের শেষে প্রয়োজন হয়। আপনি কোন মাধ্যমে আপনার ইন্সুরেন্স একাউন্ট টা তৈরি করতে চান সেটি নির্বাচন করুন।
  • অবশ্যই জীবন বীমা করার আগে, আপনার আগে থেকে যদি কোন বীমা বা কোন লোন নেওয়া থাকে সেই সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য বীমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে জানাবেন।
  • প্রত্যেক মাসেই ইন্সুরেন্স এর একাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণে কিছু অর্থ জমা রাখতে হয়। আপনি যখন এই অর্থ উত্তোলন করবেন তখন আপনার জমানো অর্থের সাথে শর্ত-সাপেক্ষে আরো কিছু অর্থ যোগ করে আপনাকে একটি বড় এমাউন্ট দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আপনি কত জমা রাখবেন এবং আপনি চুক্তি শেষে কত অর্থ লাভ পাবেন সেটি আপনার ইন্সুরেন্স কোম্পানী এর নীতিমালা অনুযায়ী ঠিক করা হয়।

এখানে আমরা লাইফ ইন্সুরেন্স করার জন্য যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো উল্লেখ করেছি। সাধারণত জীবন বীমা বা ইন্সুরেন্স করার জন্য আপনি যে প্রতিষ্ঠানটি ঠিক করবেন সেই প্রতিষ্ঠানে গেলেই আপনাকে সবকিছু বলে দিবে কিভাবে জীবন বীমার অ্যাকাউন্টটি করতে হয়।

লাইফ ইন্সুরেন্স কোথায় করলে ভালো হবে

লাইফ ইন্সুরেন্স বা জীবন বীমা সম্পর্কে জানার পরে অনেকের মনে হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে লাইফ ইন্সুরেন্স কোথায় করলে ভালো হবে?

লাইফ ইন্সুরেন্স করার জন্য আপনার আশেপাশে বা নিজ জেলার ভিতরে যে সকল ব্যাংকে লাইফ ইন্সুরেন্সের সুবিধাগুলো দেয় সেই সকল ব্যাংকে যোগাযোগ করবেন। লাইফ ইন্সুরেন্স ব্যাংকগুলোর নীতিমালা ভালোভাবে পড়ে দেখবেন। আপনি কোন নীতিমালাই লাইফ ইন্স্যুরেন্স নিতে চান বা নিলে আপনার ভালো হবে সেটি বুঝে সেই প্রতিষ্ঠানটি ঠিক করবেন। এটি সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি লাইফ ইন্সুরেন্স একাউন্ট কোথায় করবেন সেটি জানার।

নিচে লাইফ ইন্সুরেন্স বা জীবন বীমা সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।

১/ বাংলাদেশে কী কী ধরণের বীমা চালু আছে?

উত্তর: বাংলাদেশে সাধারণত দুই ধরনের বীমা চালু আছে একটি জীবন বীমা এবং অপরটি সাধারণ বীমা।

২/ জীবন বীমা কি?

উত্তর: জীবন বীমায় একজন ব্যক্তি নিজের বা পরিবারের কোন সদস্যের জীবন বীমা করাতে পারেন। জীবন বীমা ঐ ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরেই বীমার অর্থ গুলো উত্তোলন করা যায়। যার নামে বিমা করা হয় সে মারা যাওয়ার পরে নমিনিতে যে থাকে সেই ব্যক্তি এই অর্থগুলো তুলতে পারে।

৩/ জীবন বীমার সুবিধা কি?

উত্তর: জীবন বীমা আপনার এবং আপনার পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে। পরিবারের কোন সদস্য মারা যাওয়ার পরে অনেক পরিবারই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জীবন বীমা করে রাখলে তাদের আর এই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না।

৪/ লাইফ ইন্সুরেন্স এর কাজ কি?

উত্তর: নিজের বা পরিবারের কারো জীবনের নিরাপত্তার জন্য যে বীমা করা হয় তাকেই বলা হয় জীবন বীমা। জীবন বীমা একজন ব্যক্তি এবং বীমা দাতার মধ্যকার একটি চুক্তি।

৫/ বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের নাম কি?

উত্তর: বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের নাম জীবন বীমা কর্পোরেশন। এটি একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান। এই জীবন বীমা কর্পোরেশন ১৯৭৩ সালের ১৪ মে নিজেদের জার্নি শুরু করে।

৬/ জীবন বীমা ব্যাংক কি সরকারি?

উত্তর: জীবন বীমা ব্যাংক বাংলাদেশ এর প্রথম সরকারি বীমা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান।

৭/ জীবন বীমা কি হারাম?

উত্তর: হ্যা, বাংলাদেশ এ জীবন বীমা হারাম। ইসলামিক মতবাদ অনুযায়ী জীবন বীমা করা হারাম কাজ। কষ্ট করে উপার্জন করা অর্থই আমাদের জন্য হালাল। কিন্তু জীবন বীমাতে জমাকৃত টাকার উপরে কিছু হারে লাভ দেওয়া হয় যেটি সুদের ভেতরে ধরা হয় এজন্য ইসলামিক ভাবে দেখতে গেলে জীবন বীমা হারাম।

৮/ জীবন বীমা কেন হারাম?

উত্তর: বাংলাদেশে বীমা একটি হারাম কাজ। কারন বাংলাদেশের বীমা দেওয়ার ব্যাংক গুলো বা প্রতিষ্ঠান গুলো নির্দিষ্ট অঙ্কে সবাইকে মুনাফা দেয়, যা দেয় সেটা সুদের আরেক রুপ এজন্য বীমা করা হারাম।

সর্বশেষ প্রকাশিত