আজকের স্বর্ণ ও রূপার দামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: বাংলাদেশে স্বর্ণ ও রূপার দাম আন্তর্জাতিক বাজার, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। তাই গয়না কেনা, বিনিয়োগ করা বা বাজার সম্পর্কে ধারণা রাখতে প্রতিদিনের সর্বশেষ দাম জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রতিবেদনে আজকের ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম, পাশাপাশি রূপার সর্বশেষ বাজারদর সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে প্রতি ভরি ও প্রতি গ্রামের মূল্যও উল্লেখ করা হবে, যাতে আপনি সহজেই তুলনা করতে পারেন।
বাংলাদেশে সর্বশেষ সোনা এবং রূপার দাম ২০২৬
২২ ক্যারেট ১ ভরি সোনার দাম বাংলাদেশী মুদ্রায় ৳২,৪৬,১১০ টাকা।
২২ ক্যারেট ১ ভরি রোপার দাম বাংলাদেশী মুদ্রায় ৳৫,৪৮২ টাকা।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন আপডেট অনুযায়ী সোনা ও রূপার দাম:
আমরা নির্ভরযোগ্য সূত্র বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) থেকে প্রতিদিন তথ্য সংগ্রহ করে এই পেজটি হালনাগাদ করি, যাতে পাঠকরা বাংলাদেশের সর্বশেষ স্বর্ণ ও রূপার মূল্য এক জায়গায় জানতে পারেন। তবে বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান, মজুরি (মেকিং চার্জ), ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জের কারণে চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যে সামান্য পার্থক্য হতে পারে।
সর্বশেষ আপডেট: আজ শনিবার, ২২ আগষ্ট ২০২৬
GOLD PRICE:
| Gold Type | Per Gram (গ্রাম) Price | Per Vori (ভরি) Price |
|---|---|---|
| 22 KARAT Gold | 21,100 BDT | 246,110 BDT |
| 21 KARAT Gold | 20,150 BDT | 235,030 BDT |
| 18 KARAT Gold | 17,305 BDT | 201,846 BDT |
| TRADITIONAL Gold | 14,130 BDT | 164,812 BDT |
স্বর্ণের দাম:
| স্বর্ণের ধরন | প্রতি (আনা) দাম | প্রতি (ভরি) দাম |
|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ১৫,৩৮২ টাকা | ২৪৬,১১০ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ১৪,৬৮৯ টাকা | ২৩৫,০৩০ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ১২,৬১৫ টাকা | ২০১,৮৪৬ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ | ১০,৩০১ টাকা | ১৬৪,৮১২ টাকা |
SILVER PRICE:
| Silver Type | Per Gram (গ্রাম) Price | Per Vori (ভরি) Price |
|---|---|---|
| 22 KARAT Gold | 470 BDT | 5,482 BDT |
| 21 KARAT Gold | 450 BDT | 5,249 BDT |
| 18 KARAT Gold | 385 BDT | 4,491 BDT |
| TRADITIONAL Silver | 290 BDT | 3,383 BDT |
রূপার দাম:
| রূপার ধরন | প্রতি (আনা) দাম | প্রতি (ভরি) দাম |
|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ৩৪৩ টাকা | ৫,৮৪২ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ৩২৮ টাকা | ৫,২৪৯ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ২৮১ টাকা | ৪,৪৯১ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতির রূপা | ২১১ টাকা | ৩,৩৮৩ টাকা |
NB:১ ভরি সোনা সমান ১১.৬৬ গ্রাম।
কেন স্বর্ণের দাম পরিবর্তিত হয়?
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কারণে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য ওঠানামা, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার, আমদানি শুল্ক ও পরিবহন ব্যয়, দেশের চাহিদা ও সরবরাহ, মুদ্রাস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)-এর ঘোষিত মূল্য—এসব বিষয় স্বর্ণের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এছাড়া ঈদ, পূজা, বিয়ের মৌসুম বা অন্যান্য উৎসবের সময় স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে গেলে দামও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই স্বর্ণ কেনা বা বিনিয়োগের আগে সর্বশেষ বাজারদর ও বাজুসের প্রকাশিত মূল্য যাচাই করা উচিত।
স্বর্ণ এবং রূপার হিসাব:-
বাংলাদেশে স্বর্ণ ও রূপার দাম সাধারণত ভরি, গ্রাম এবং আনা এককে হিসাব করা হয়। গয়না কেনা বা বিক্রির সময় ধাতুর বিশুদ্ধতা (যেমন ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট বা ১৮ ক্যারেট), ওজন এবং প্রতি এককের বাজারদরের ভিত্তিতে মোট মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মেকিং চার্জ, ভ্যাট এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ চূড়ান্ত মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তাই স্বর্ণ বা রূপা কেনার আগে বর্তমান বাজারদর, ওজনের হিসাব এবং অতিরিক্ত চার্জ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে যেইভাবে হিসেব করা হয়-
| এক ভরি | ১১.৬৬ গ্রাম |
| এক ভরি | ১৬ আনা |
| এক ভরি | ৯৬ রতি |
| এক আনা | ৬ রতি |
বাহিরে দেশের লোকজন যেইভাবে স্বর্ণের আউন্স ভিত্তিক হিসাব করে–
| এক আউন্স | ২.৪৩০৫ ভরি |
| এক আউন্স | ২৮.৩৪৯৫ গ্রাম |
| এক ভরি | ০.৪১১৪৩ আউন্স |
| এক ভরি | ১১.৬৬৩৮ গ্রাম |
সোনা কত ধরণের হয়-
ক্যারেট অনুযায়ী সোনার দাম/মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে যদিও বাংলাদেশে ভরি হিসেবে কেনা-বেচা হয়। সোনা চার ধরনের ক্যারেট হয়ে থাকে নিম্নে প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
- ২৪ ক্যারেট
- ২২ ক্যারেট
- ২১ ক্যারেট
- ১৮ ক্যারেট
বিশুদ্ধতা:
| ক্যারেট | বিশুদ্ধতা |
|---|---|
| ২৪ ক্যারেট | ৯৯.৯% |
| ২২ ক্যারেট | ৯১.৬% |
| ২১ ক্যারেট | ৮৭.৫% |
| ১৮ ক্যারেট | ৭৫% |
২৪ ক্যারেট স্বর্ণ :
২৪ ক্যারেট স্বর্ণে ৯৯.৯% বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে, যা সর্বোচ্চ মানের বিশুদ্ধ স্বর্ণ হিসেবে পরিচিত। তবে এটি অত্যন্ত নরম হওয়ায় সাধারণ গয়না তৈরিতে খুব কম ব্যবহার করা হয়, কারণ সহজেই বাঁকতে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ মূলত স্বর্ণের বার (Gold Bar), কয়েন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য বেশি ব্যবহৃত হয়। যারা বিশুদ্ধ স্বর্ণে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ সবচেয়ে উপযুক্ত।
২২ ক্যারেট স্বর্ণ :
২২ ক্যারেট স্বর্ণে প্রায় ৯১.৬৭% বিশুদ্ধ স্বর্ণ এবং বাকি অংশে অন্যান্য ধাতু থাকে। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত গয়নার স্বর্ণ। বিশুদ্ধতা, উজ্জ্বলতা এবং স্থায়িত্বের মধ্যে ভালো ভারসাম্য থাকায় বিয়ে, আংটি, চেইন, বালা, হারসহ অধিকাংশ অলংকার তৈরিতে ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়।
২১ ক্যারেট স্বর্ণ :
২১ ক্যারেট স্বর্ণে প্রায় ৮৭.৫% বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে। এটি ২২ ক্যারেটের তুলনায় কিছুটা বেশি শক্ত হওয়ায় সূক্ষ্ম নকশার গয়না তৈরিতে উপযোগী। বাংলাদেশে কিছু জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট ধরনের অলংকার তৈরিতে ২১ ক্যারেট স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়।
১৮ ক্যারেট স্বর্ণ :
১৮ ক্যারেট স্বর্ণে ৭৫% বিশুদ্ধ স্বর্ণ এবং ২৫% অন্যান্য ধাতু থাকে। এটি তুলনামূলকভাবে বেশি টেকসই ও আঁচড়-প্রতিরোধী হওয়ায় আধুনিক ডিজাইনের গয়না, হীরার গয়না এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের অলংকারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। যারা দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য গয়না চান, তাদের জন্য ১৮ ক্যারেট একটি ভালো বিকল্প।
সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ:
সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের বিশুদ্ধতা নির্দিষ্ট নয় এবং এটি সাধারণত ১৮ ক্যারেটের নিচে হতে পারে। পুরোনো বা ঐতিহ্যবাহী গয়না তৈরিতে এ ধরনের স্বর্ণ ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে নতুন গয়না তৈরিতে এর ব্যবহার অনেক কম। কেনার আগে অবশ্যই বিশুদ্ধতা যাচাই করে নেওয়া উচিত, কারণ এর মান ও মূল্য একেক ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে।
এই আর্টিকেলটিতে সর্বশেষ সোনার দাম কত সেটা (Live Gold Price in Bangladesh) আপডেট করে থাকি। তাই যাদের প্রতিদিনের সোনার দাম জানা প্রয়োজন তারা আমাদের এই লেখাটি ফলো করতে পারেন।



