-

দুষ্ঠ শামীম খলিফা থেকে দেশের খ্যাতিমান তারকা মোশারফ করিম হয়ে ওঠার গল্প

মোশারফ করিমের ছোট-বেলার ছবি

ছোট বেলা থেকেই চঞ্চল ও দূরান্তপনা পাশাপাশি এ গ্রাম থেকে ও গ্রামে বন্ধুদের নিয়ে ছুটে চলাই ছিল তার কাজ । গ্রামে থাকাকালীন সময়ের অধিকাংশ সময়ই নদীর তীরে আড্ডা দিয়ে কাটিয়েছেন। গৌরনদী উপজেলা সদর থেকে ৬ কিলোমিটার প্রত্যন্ত পল্লী ঐতিহ্যবাহী নলচিড়া উনিয়নের বোরাদী গরঙ্গল গ্রামে তার জন্ম। ১৯৮০ সালে পিংলাকাঠ চিপারটাইপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় পাশ করে পিংলাকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনিতে ভর্তি হন। ১৯৮৬ সালে প্রথম বিভাগে এস,এস,সি পাশ করেন। গ্রামের বন্ধুবান্ধব, সহপাঠ, শিক্ষক ও পারিবারিক সদস্যদের দেয়া তথ্য মতে ছোট বেলা থেকেই মোশারফ করিম অত্যন্ত দুষ্ট প্রকৃতির ও মেধাবী ছাত্র ছিলেন। সব সময় দূরান্তপনা ও আড্ডা দিতেই বেশী পছন্দ করতেন। সোমবার সকালে নলচিড়া ইউনিয়নের বোরাদী গরঙ্গল গ্রামে রওয়ানা হলে পিংলাকাঠী হাইস্কুলের পূর্ব পাশ পর্যন্ত যাওয়ার পরে তারকা মোশারফ করিমের বাড়ি যেতে প্রায় আধা কিলোমিটর পথ বাড়ি দিতে হয়। বাড়ি পর্যন্ত যেতে ওই আধা কিলোমিটার পথ কোন রাস্তা নেই। অন্যের বাড়ির উপর দিয়ে হাটু কর্দমাক্ত পথ বাড়ি দিয়ে বাড়িতে পৌছতেই ঘরের কোনে একটি সিঙ্গেল বাঁশের সাকো পাড় হতে হয়। বাড়িতে পৌছতেই দেখা যায় পুরানো একটি দোতালা টিনের ঘর। বাড়িতে জনমানব শুন্য। দেখলেই বোঝা যায় এ বাড়িতে কেহই থাকেন না। হয়তো বছরের মাঝে মধ্যে দু এক দিন কোন মেহমান রাত যাপন করে থাকেন। মোশারফ করিমের বাড়ির পাশের জুলহাস(৪০) জানান, এ বাড়িতে কেহ থাকেন না। প্রতি বছর ঈদে শামীম খলিফা (মোশারফ করিম) বাড়িতে এসে ১/২ দিন থাকেন এবং জমিয়ে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিয়ে আনন্দ ফূর্তি করে সময় কাটিয়ে ঢাকায় চলে যান। করিমের প্রতিবেশী ভাবি ফিরোজা বেগম (৬০) বলেন, ও (করিম) প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে আসেন এবং হৈ হুল্লর করে বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটান। গ্রাম ঘুরে দেখেন, এ বাড়িতে থেকে ও বাড়িতে ছুটে সবার খোজ খবর নেন। পুরো গ্রামটি মাতিয়ে রাখেন। তিনি আরো বলেন, শামীম খলিফার সবচেয়ে পছন্দ হচ্ছে আড়িয়াল খাঁর শাখা নদী পালরদী নদীর তীরে আড্ডা দেওয়া ও নদীতে গোসল করা। বাড়িতে এসেই প্রথমইে ছুটে যান শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত নদীর তীরে। গ্রামের লোকজন জানান, শামীম বাড়িতে আসলে যে কয় দিন থাকেন প্রতিদিন শত শত ভক্ত, বন্ধুবান্ধব হিতাকাঙ্খী বাড়িতে ভীড় জমায় কিন্তু শামীম সকলের সঙ্গে সৎ আচরন করে তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। ধনী গরীব সকলের সঙ্গে সমহারে কোলে টেনে নেন। বিন্দুমাত্র হিংসা বিদ্বেশ নেই।  পিংলাকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(অবঃ) মো. বজলুর রহমান বলেন, শামীম খলিফা ছোট বেলা থেকেই দুষ্ঠ প্রকৃতির হলেও সে ছিল খুবই মেধাবী। মানব দরদী। আজও সেই ধারা সে ধরে রেখেছেন। করিমের বাড়ির অদূরেই বড় বোন হেলেনুর রহমান নিজ বাড়িতে বাস করেন। ওই বাড়িতে গেলে হেলেনুর রহমান জানান, তারা ৫ ভাই ৫ বোনের মধ্যে শামীম খলিফা (মোশারফ করিম) ৪র্থ। তার বাবা করিম খলিফা ছিলেন একজন পল্লী চিকিৎসক এবং মমতাজ বেগম ছিলেন একজনগৃহীনী। তিনি বলেন, শামীম ছিলেন গ্রামের সেরা দুষ্ঠ, তার পছন্দের একটি দিক ছিল বন্ধুদের নিয়ে স্কুল মাঠে আড্ডা দেওয়া । নদীর তীরে ছুটে চলা। করিমের কাছের বন্ধুরা অনেকেই ঢাকায় বসবাস করেন। সহপাঠি নয় শৈশবের দুষ্ঠামির বন্ধু কৃষক আনোয়ার আকন। আনোয়ার বলেন, শামীম খলিফা(মোশারফ করিম)মোর একজন ভাল বন্ধু, ওরে নিয়ে মুই খুব গর্ব করি। মোর শামীমরে যহন টিভিতে দেহি তহনবুকটা ভইররা যায়।গ্রামের লোকজন ও এলাবাসী জানান, মোশারফ করিম দেশের গর্ব । তার বাড়িতে যাওয়ার কোন রাস্তা বা পথ নেই। সে বাড়িতে আসলে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ বাড়িতে ভিড় জমায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ প্রকাশিত